ড্রপশিপিং নাকি ড্রপসার্ভিসিং? জেনে নিন কোনটি Best !

ড্রপশিপিং নাকি ড্রপসার্ভিসিং_

ড্রপশিপিং নাকি ড্রপসার্ভিসিং? জেনে নিন কোনটি Best !

বর্তমানে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নতির বদৌলতে বিভিন্ন অনলাইন বিজনেস মডেল প্রতিনিয়তই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ড্রপশিপিং এবং ড্রপসার্ভিসিং এমনই দুটি বিজনেস মডেল। এ দুটির মধ্যে ড্রপশিপিংয়ের নাম অনেকে শুনে থাকলেও ড্রপসার্ভিসিং সম্পর্কে অনেকেই জানেননা। আবার অনেকে দুটিকে গুলিয়েও ফেলেন। একারণে সবার যাবতীয় কনফিউশান ক্লিয়ার করতে আজকে আমি ড্রপশিপিং এবং ড্রপসার্ভিসিং এ দুটির মধ্যে তুলনা করে কোনটি বেছে নেয়া আপনাদের জন্য বেস্ট হবে সে ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করবো৷ 

ড্রপশিপিং কী? 

ড্রপশিপিং হলো এ যুগের জনপ্রিয় একটি ই-কমার্স বিজনেস মডেল৷ অন্য বেশিরভাগ বিজনেসে প্রোডাক্ট সেল করতে চাইলে সে প্রোডাক্টগুলো আগে থেকে স্টকে এনে রাখতে হয়। এটির জন্য যেমন বাড়তি জায়গার প্রয়োজন, তেমনি ভালো অংকের ইনভেস্টমেন্ট থাকাও প্রয়োজন। 

কিন্তু ড্রপশিপিং এমন একটি বিজনেস মডেল যেটিতে প্রোডাক্ট স্টক করার কোনোপ্রকার ব্যাপার তো নেই ই, উপরন্তু এ বিজনেসে কাস্টমারের কাছে তার অর্ডারকৃত প্রোডাক্ট সরাসরি সাপ্লাইয়ারের মাধ্যমে পাঠানো হয়। 

সুতরাং বুঝতেই পারছেন, ড্রপশিপিং বিজনেস যারা একদম সীমিত ইনভেস্টমেন্টে নিজের স্টার্টআপ দিতে আগ্রহী তাদের জন্য একদম পারফেক্ট। ড্রপশিপিং করার জন্য বিভিন্ন জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মের মধ্যে eBay এবং Shopify সর্বাধিক জনপ্রিয়। তবে এক্ষেত্রে যারা একদম নতুন, যাদের তেমন কোনো ইনভেস্টমেন্ট নেই, ওয়েবসাইট বানানোর ঝক্কি পোহাতে চাচ্ছেননা এবং মার্কেটিংয়ের পেছনে এক্সট্রা টাকাপয়সা খরচ করতে চাচ্ছেননা, তাদের জন্য ড্রপশিপিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে eBay ই সেরা। 

যদি ড্রপশিপিংয়ের প্রকারভেদ নিয়ে বলতে যাই, তাহলে বলা যায় ড্রপশিপিং মূলত দুই প্রকারের হয়ে থাকে। যেগুলো হলো রিটেইল এবং হোলসেল ড্রপশিপিং। রিটেইল ড্রপশিপিংয়ে রিটেইলারের কাছ থেকে প্রোডাক্ট কিনে সেগুলো ড্রপশিপিং প্ল্যাটফর্মে কাস্টমারের কাছে সেল করা হয়।এ ধরণের ড্রপশিপিং অনেকের কাছে লাভজনক মনে হলেও এটিতে যথেষ্ট ঝুঁকিও রয়েছে। কারণ এখানে প্রোডাক্টের কোয়ালিটি মেইনটেইনের সুযোগ কম এবং প্রোডাক্ট রিস্টকও করা পসিবল হয়না। অপরদিকে হোলসেল ড্রপশিপিংয়ে কোনো কোম্পানি থেকে সরাসরি হোলসেলে প্রোডাক্ট কিনে সেগুলো ড্রপশিপ করা হয়। এ ধরণের ড্রপশিপিংয়ে প্রোডাক্টের কোয়ালিটি যাচাই করা সম্ভব হয়, প্রোডাক্ট রিস্টক করা যায়। পাশাপাশি হোলসেলে কেনা হয় বলে প্রোডাক্টের দাম ও কম পড়ে। তাই এক্সপার্টরা হোলসেল ড্রপশিপিং বেছে নেয়ার সাজেশন দিয়ে থাকেন।

ড্রপসার্ভিসিং কী? 

ড্রপসার্ভিসিং হলো এমন এক ধরণের বিজনেস মডেল যেখানে আপনি ক্লায়েন্টের কাছ থেকে একটি কাজের কিংবা সার্ভিসের অর্ডার নেবেন ঠিকই, কিন্তু সে কাজটি আপনার নিজেকে করে ডেলিভারি দিতে হবেনা৷ কারণ এ বিজনেসে ক্লায়েন্টের কাজ করে দেয়ার জন্য আরেকজনকে হায়ার করা হয় যে ক্লায়েন্টের রিকয়ারমেন্ট অনুযায়ী কাজ করে দেয়। 

এখন নিশ্চয়ই ভাবছেন তাহলে যিনি ড্রপসার্ভিসিং করছেন তার লাভ কতটুকু? এক্ষেত্রে কাজ করার জন্য যাকে হায়ার করা হয় তাকে ক্লায়েন্টের দেয়া অ্যামাউন্টের চেয়ে কম টাকা পে করা হয়৷ জেনে রাখা ভালো, বেশিরভাগ সময়েই ক্লায়েন্টকে অন্য একজনকে দিয়ে যে কাজটি করিয়ে নেয়া হয়েছে সেটি জানানো হয়না৷ এতে করে যিনি ড্রপসার্ভিসিং করছেন তিনি লাভবান হন।

ধরুন, আপনি ড্রপসার্ভিসিং করেন। আপনার একজন ক্লায়েন্ট বললো তার জন্য আগামী পাঁচ দিনে একটি ওয়েবসাইট ডিজাইন করে দিতে হবে এবং এ কাজের জন্য ক্লায়েন্টের বাজেট ১০০ ডলার। এরপর আপনি ওয়েব ডিজাইনে এক্সপার্ট এমন একজন ফ্রিল্যান্সারকে ৭০ ডলার পে করার অফার দিয়ে কাজটি করিয়ে ক্লায়েন্টকে সময়মত ডেলিভারি দিয়ে দিলেন। এতে করে যে ৩০ ডলার লাভ হচ্ছে সেটিই এ বিজনেস থেকে আপনার লাভ। 

যারা ড্রপসার্ভিসিং করেন, তারা প্রথমেই নিশ সিলেক্ট করে নিজেদের একটি ওয়েবসাইট বানান যেখানে তারা নিজেদের অফার করা সার্ভিসগুলো তুলে ধরেন। এরপর তারা ক্লায়েন্টদের আকর্ষণ করার জন্য মার্কেটিং স্ট্র‍্যাটেজি বানিয়ে সেগুলো ইমপ্লিমেন্ট করেন। যখন তারা ক্লায়েন্টদের থেকে কাজের অর্ডার পান, তখন তারা বাইরে থেকে একজন ফ্রিল্যান্সার বা এক্সপার্টকে ক্লায়েন্টের অফার করা পেমেন্টের চেয়ে কম পেমেন্টে হায়ার করে কাজটি করিয়ে নেন। তারা বাইরে থেকে যাকে হায়ার করেন তাকে পেমেন্ট দেয়ার পর যেটুকু টাকা বাকি থাকে সেটুকুই তাদের লাভ। এভাবেই মূলত ড্রপসার্ভিসিং বিজনেস পরিচালিত হয়ে থাকে। 

ড্রপসার্ভিসিং বিজনেস অত্যন্ত লাভজনক। কেননা এ বিজনেসে একইসাথে একাধিক ক্লায়েন্টের কাছ থেকে কাজের অর্ডার নেয়া যায়। পাশাপাশি বিজনেস বড় হলে প্রচুর অর্ডার আসে ফলে প্রফিট জেনারেট করাও সহজ হয়ে যায়। 

ড্রপশিপিং নাকি ড্রপসার্ভিসিং_

ড্রপশিপিং নাকি ড্রপসার্ভিসিং? কোনটি বেছে নেয়া উচিৎ? 

ড্রপশিপিং এবং ড্রপসার্ভিসিং এ দুটির মধ্যে নিজের জন্য কোনটি বেছে নেবেন তা আরেকটু ভালোমতো বোঝার জন্য চলুন শুরুতেই এ দুটি বিজনেস মডেলের সুবিধা এবং অসুবিধাগুলো জেনে নেয়া যায়। 

যদি ড্রপশিপিং নিয়ে বলতে চাই, এ বিজনেস শুরু করতে চাইলে খুব বেশি ইনভেস্টমেন্ট থাকার দরকার হয়না। বিশেষ করে যদি eBay তে ড্রপশিপিং করেন, তাহলে নিজের কোনরকম ওয়েবসাইট থাকার প্রয়োজন হবেনা এবং মার্কেটিংয়ের পেছনেও বাড়তি টাকা পয়সা খরচ হবেনা। আপনার যদি ড্রপশিপিং নিয়ে বেসিক নলেজটুকু থাকে তাহলেই আপনি এ বিজনেস শুরু করতে পারবেন। 

তবে এ বিজনেসের প্রফিট মার্জিন শুরুর দিকে অতোটা থাকেনা। কেননা এ বিজনেসে কম্পিটিশন দিনদিন বাড়ছে। একারণে প্রচুর পরিমাণে নতুন ড্রপশিপার এ বিজনেসে যুক্ত হচ্ছে। তাই প্রফিট মার্জিন বাড়ানোর জন্য এ বিজনেসে প্রোডাক্ট রিসার্চ, নিশ সিলেকশন, প্রোডাক্টের কোয়ালিটি যাচাই, সাপ্লায়ারদের সাথে কমিউনিকেশন এসব ক্ষেত্রে প্রচুর সময় দিতে হয়। তবে একবার এ বিজনেসে ভালো পরিমাণ প্রফিট আসতে শুরু করলে আর পেছন ফিরে তাকাতে হবেনা।

অপরদিকে ড্রপসার্ভিসিং এমন একটি বিজনেস মডেল যেটি শুরু করতে চাইলে আগে থেকে কোন সেক্টরে স্কিল না থাকলেও চলে৷ কারণ এ বিজনেসে বাইরে থেকে ফ্রিল্যান্সারকে হায়ার করে ক্লায়েন্টকে সার্ভিস দেয়া হয়, তাই আলাদা করে কোন সেক্টরেই আপনাকে আলাদা করে স্কিল ডেভেলপ করতে হবেনা। সুতরাং চাইলে যেকোন সময় এ বিজনেস শুরু করা যায়। পাশাপাশি এ বিজনেসে নিজের সুবিধাজনক যেকোনো সময়ে ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে অর্ডার নেয়ার জন্য মার্কেটিং করার সুবিধা পাওয়া যায়। 

এছাড়াও এ বিজনেসে শুরু থেকেই প্রফিট মার্জিন বেশি থাকে কারণ একই সাথে একাধিক ক্লায়েন্টের কাছ থেকে অর্ডার নিয়ে অন্য কাউকে দিয়ে সে কাজগুলো করিয়ে নেয়া যায় খুব সহজেই। যদি সঠিকভাবে এ বিজনেসের মার্কেটিং করতে পারেন তাহলে ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে বেশি পরিমাণে অর্ডার পাবেন। এতে করে আরো বেশি প্রফিট অর্জন করতে পারবেন। 

কিন্তু এ বিজনেসে কিছু অসুবিধাও রয়েছে। যদি ক্লায়েন্টেদেরকে বেশি কম্পিটিশনের কোন নিশরিলেটেড সার্ভিস অফার করতে চান, তাহলে ক্লায়েন্ট পেতে দেরি হতে পারে। আবার অনেক সময় ক্লায়েন্টের রিকয়ারমেন্ট ফুলফিল করতে পারে এমন ফ্রিল্যান্সার খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। তখন ক্লায়েন্টকে সার্ভিস ডেলিভারি দেয়া পসিবল হয়না৷ মাঝেমধ্যে দেখা যায়, বাইরে থেকে ফ্রিল্যান্সার হায়ার করতে গেলে তারা বেশি পেমেন্ট চেয়ে থাকে যা ড্রপসার্ভিসিং বিজনেস করা ব্যক্তির পক্ষে দেয়া সম্ভব নয়। তবে এটুকু বলতে পারি, সঠিকভাবে মার্কেটিং করতে পারলে এবং ভালো মানের ফ্রিল্যান্সার হায়ার করতে পারলে এ বিজনেসে সাকসেসফুল হওয়া যায়। 

এখন প্রশ্ন হলো, ড্রপশিপিং এবং ড্রপসার্ভিসিংয়ের মধ্যে কোনটি বেটার? এটি আসলে পুরোপুরি পারসোনাল চয়েস। কারণ দুটি বিজনেস মডেলেই সাকসেসফুল হওয়ার ভালো পরিমাণ চান্স আছে। যদি আপনার সত্যিকার অর্থে ড্রপশিপিং নিয়ে প্যাশন থাকে এবং বিজনেস করার প্ল্যান থাকে, পাশাপাশি নিশ এবং প্রোডাক্ট রিসার্চ থেকে শুরু করে সাপ্লাইয়ার খুঁজে পাওয়া পর্যন্ত প্রতিটি কাজ নিজের হাতে করতে চান তাহলে ড্রপশিপিং করতে পারেন৷ তবে এ বিজনেস করতে চাইলে সময় দিতে হবে এবং প্রচুর পরিশ্রম করতে হবে এটি অবশ্যই মাথায় রাখবেন। 

আবার যদি নিজের তেমন কোন স্কিল না থাকে কিন্তু বিজনেস করে লাভবান হতে চান, তাহলে ড্রপসার্ভিসিং করতে পারেন। তবে এ বিজনেস সাকসেসফুল করতে চাইলে বিজনেস মার্কেটিং ইফেকটিভলি করতে হবে এবং ভালো মানের ফ্রিল্যান্সার খুঁজে বের করতে হবে৷ 

সুতরাং এটিই ছিলো ড্রপশিপিং এবং ড্রপসার্ভিসিং এ দুটির মধ্যে আলোচনা। নিজের জন্য যে বিজনেস মডেল ই বেছে নিননা কেন, তার আগে সে মডেল সম্পর্কে পর্যাপ্ত রিসার্চ করে নিন। এতে করে কোন মডেলটি আপনার জন্য পারফেক্ট তা বুঝতে আর অসুবিধা হবেনা! 

Write a comment