Posted on

ড্রপশিপিং বিজনেসে কাস্টমার সার্ভিস সম্পর্কে বিস্তারিত

ড্রপশিপিং বিজনেসে কাস্টমার সার্ভিস

ড্রপশিপিং বিজনেসে কাস্টমার সার্ভিস সম্পর্কে বিস্তারিত

বর্তমানে অনেকেই ড্রপশিপিং বিজনেসের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন। সামান্য ইনভেস্টমেন্টে ভালো অ্যামাউন্টের প্রফিট জেনারেট করার সুযোগ থাকায় এ বিজনেস এখন অনেকেরই চয়েসের শুরুতে। এ বিজনেস সাকসেসফুল করতে নিজেকে যেমন প্রচুর পরিমাণে সময় এবং এফোর্ট দিতে হয়, একইসাথে ভালো কাস্টমার সার্ভিস দিতে পারাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আজকের লেখায় আমি ড্রপশিপিং বিজনেসে কাস্টমার সার্ভিস সম্পর্কে ডিটেইলে আলোচনা করার চেষ্টা করবো যেখান থেকে সবাই এ বিজনেসে কাস্টমার সার্ভিসের গুরুত্ব বুঝতে পারবেন। 

ড্রপশিপিং বিজনেসে কাস্টমার সার্ভিস কেন গুরুত্বপূর্ণ? 

শুরুতেই বলি, ড্রপশিপিং এমন একটি বিজনেস মডেল যেটিতে কাস্টমারের অর্ডার দেয়া প্রোডাক্ট সরাসরি সাপ্লাইয়ারের কিংবা ম্যানুফ্যাকচারারের মাধ্যমে তাকে পৌঁছে দেয়া হয়। অর্থাৎ এ বিজনেসে প্রফিট জেনারেট করার অন্যতম উপায় হলো বেশি বেশি কাস্টমার পাওয়া এবং তাদের কাছে প্রোডাক্ট ড্রপশিপ করা। 

সুতরাং কাস্টমাররা এ বিজনেস সাকসেসফুল হওয়ার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন৷ অথচ বেশিরভাগ ড্রপশিপারই তাদের বিজনেসে কাস্টমার সার্ভিসের ব্যাপারে পুরোপুরি উদাসীন থাকেন। তারা হয়তো কাস্টমারদের সাথে ঠিকমতো কমিউনিকেট করেননা, তাদের প্রশ্নের ঠিকমতো উত্তর দেননা। একারণে দেখা যায়, ভালো কাস্টমার সার্ভিস না পাওয়ার কারণে কাস্টমাররা সেই ড্রপশিপিং স্টোর থেকে অর্ডার দিতে কমফোর্টেবল ফিল করেননা। আবার অনেক সময় হয়তো তারা সেই স্টোরে নেগেটিভ রিভিউও দিয়ে থাকেন যা স্টোরের প্রোডাক্ট কোয়ালিটি নিয়ে অন্য কাস্টমারদের মনে প্রশ্ন জাগিয়ে দেয়। ফলস্বরূপ দেখা যায়, পরবর্তীতে ড্রপশিপাররা আশানুরূপ অর্ডার পাননা৷ এতে বিজনেসে প্রফিট তো হয় ই না উলটো আরো লসের কবলে পড়তে হয়৷ 

ড্রপশিপিং বিজনেসে ভালো কাস্টমার সার্ভিস দিতে পারলে বিভিন্ন বেনিফিট পাওয়া সম্ভব হয়। যেমন –

রিপিট কাস্টমার পাওয়া 

যখন একজন কাস্টমার একটি ড্রপশিপিং স্টোরে উন্নত মানের কাস্টমার সার্ভিস পাবেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই তিনি আবার সেই স্টোর থেকেই প্রোডাক্ট অর্ডার দেবেন। তাই যদি ভালো কাস্টমার সার্ভিস দিতে পারেন, তাহলে রিপিট কাস্টমার পাবেন যারা আপনার বিজনেসের প্রতি লয়াল থাকবেন। 

কমসংখ্যক রিফান্ড রিকুয়েষ্ট পাওয়া 

যখন একজন কাস্টমার কোন ড্রপশিপিং স্টোর থেকে ভালো কাস্টমার সার্ভিস পান, তখন সাধারণত রিফান্ড রিকুয়েষ্টের পারসেন্টেজ কমে যায়। আর কমসংখ্যক রিফান্ড রিকুয়েষ্ট পাওয়ার অর্থ বিজনেসের উন্নতি। অন্যদিকে যদি বেশি সংখ্যাক রিফান্ড রিকুয়েষ্ট আসে তাহলে পেমেন্টের অ্যাকাউন্ট এমনকি ড্রপশিপিং স্টোরও ব্যান হয়ে যাওয়ার চান্স থাকে। সুতরাং বুঝতেই পারছেন, কাস্টমারদের সাথে যদি সময় নিয়ে সঠিকভাবে কমিউনিকেশন মেইনটেইন করেন, তাহলে সেটি আপনার বিজনেসের অবস্থা ডেভেলপ করতে খুবই ইফেকটিভ হবে! 

পেমেন্ট মেথড ব্যানের চান্স কমে যাওয়া 

যারা বিজনেসে বিভিন্ন পেমেন্ট মেথডের অ্যাকাউন্ট ইউজ করেন, তারা নিশ্চয়ই জানেন, কাস্টমারদের সাথে ঠিকমতো কমিউনিকেট করা না হলে এসব অ্যাকাউন্ট ব্যান হয়ে যাওয়ার চান্স থাকে। তাই যদি নিজের পেমেন্ট মেথড অ্যাকাউন্ট ব্যানের চান্স কমিয়ে ফেলতে চান, তাহলে সঠিকভাবে কাস্টমার সার্ভিস দেয়ার চেষ্টা করুন। 

বেশি বেশি পজিটিভ রিভিউ পাওয়া 

সাধারণত যেসব কাস্টমার আপনার স্টোর থেকে ভালো প্রোডাক্ট এবং ভালো বিহেভিয়ার দুটোই পায়, তারা সেই স্টোরে পজিটিভ রিভিউ দিয়ে থাকেন। এই একেকটি পজিটিভ রিভিউ অন্য কাস্টমারদেরকেও সেই ড্রপশিপিং স্টোর থেকে প্রোডাক্ট অর্ডার দিতে মোটিভেট করে৷ তাই যদি বেশি বেশি পজিটিভ রিভিউ পেতে চান, তাহলে অবশ্যই নিজের কাস্টমারদের সাথে প্রোপারলি কমিউনিকেট করুন। 

সুতরাং যদি নিজের বিজনেসকে সাকসেসফুল অবস্থায় দেখতে চান, তাহলে অবশ্যই ভালো কাস্টমার সার্ভিস দেয়ার চেষ্টা করবেন৷ এতে করে অল্প সময়ে বেশি ক্লায়েন্ট পেতে পারবেন যা বিজনেসের প্রফিট বহুগুণে বাড়িয়ে দেবে। 

ড্রপশিপিং বিজনেসে কাস্টমার সার্ভিস

কিভাবে কাস্টমারদের সাথে বিভিন্ন সিচুয়েশনে সঠিকভাবে কমিউনিকেট করবেন? 

কাস্টমার সার্ভিস সম্পর্কে খুব জনপ্রিয় একটি লাইন হলো “Kill your Customer with kindness. “

বলা হয়ে থাকে, সঠিকভাবে কাস্টমারদের সাথে কমিউনিকেট 

করা হলে যেকোন বিজনেস পরিচালনা করা সহজ হয়ে যায়। যেহেতু ড্রপশিপিং বিজনেসে কাস্টমাররা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রোল প্লে করে, একারণে বিভিন্ন সিচুয়েশনে তাদেরসাথে সঠিকভাবে কমিউনিকেট করা প্রতিটি ড্রপশিপারের দায়িত্ব। তাই এখন আমি আপনাদের জানাবো কিভাবে কাস্টমারদের সাথে বিভিন্ন সিচুয়েশনে সঠিকভাবে কমিউনিকেট করবেন।

কাস্টমারদের কোন প্রশ্নেই কখনো বিরক্তি প্রকাশ করবেননা। কারণ যে প্রোডাক্ট কাস্টমার তার নিজের টাকা খরচ করে কিনবেন, কেনার আগে সে প্রোডাক্ট সম্পর্কে জেনে নেয়া তার অধিকার। এজন্যে সবসময় ধৈর্য্য ধরে কাস্টমারের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেবেন। এতে করে দেখবেন কাস্টমার খুশি হবে এবং প্রোডাক্ট অর্ডার দিতে মনস্থির করে ফেলবে। 

যদি কোন কাস্টমার তার প্রোডাক্টের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চান, কখনোই তাকে ভুলভাল ইনফরমেশন দেবেননা। যদি কোন প্রোডাক্ট কাস্টমারের কাছে পৌঁছাতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগে, তাহলে কাস্টমারকে সেই বিষয়ে অবহিত করবেন এবং বিনীতভাবে অপেক্ষা করতে বলুন । 

অনেক সময় দেখা যায়, প্রোডাক্টের কোয়ালিটি ভালো না লাগলে কাস্টমার রিফান্ড দাবি করেন। যদি এমন কোন সিচুয়েশনের স্বীকার হন তাহলে শুরুতেই দুঃখ প্রকাশ করে নম্রভাবে কাস্টমারকে স্যরি বলুন। এরপর তাকেই জিজ্ঞেস করুন কিভাবে এ প্রোডাক্টজনিত সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে। এছাড়াও যদি সম্ভব হয় তাহলে কাস্টমারকে প্রোডাক্ট রিপ্লেসমেন্টের অফারও দিতে পারেন। যদি এভাবে কাস্টমারের সাথে কমিউনিকেট করেন, তাহলে দেখবেন কাস্টমার রিফান্ড চাইলেও হয়তো কোন নেগেটিভ রিভিউ দেবেনা। 

কোন কোন মাধ্যম ব্যবহার করে ভালো কাস্টমার সার্ভিস দেয়া উচিত? 

ভালো কাস্টমার সার্ভিস দেয়ার জন্য যেটি সবার শুরুতে করা প্রয়োজন সেটি হলো কাস্টমারদের সাথে কমিউনিকেট করা। তাই চলুন দেরি না করে জেনে নেয়া যাক কোন কোন মাধ্যম ব্যবহার করে কাস্টমার সার্ভিস দেয়া উচিত। 

১।লাইভ চ্যাট 

লাইভ চ্যাট পূর্বে অত জনপ্রিয় না হলেও বর্তমানকালে বেশ জনপ্রিয়। লাইভ চ্যাট অপশন থাকলে কাস্টমাররা সে অপশনে ক্লিক করে তাদের যেকোন সমস্যায় সরাসরি ড্রপশিপারদের সাথে যোগাযোগ করতে পারে৷ এক্ষেত্রে যেমন দুই পক্ষের কমিউনিকেশন সহজ হয়ে যায় একইসাথে কাস্টমাররা তাদের প্রোডাক্ট সম্পর্কিত যেকোন কনফিউশান ক্লিয়ার করতে পারে। আবার যেকোন সমস্যাও খুব তাড়াতাড়ি সলভ করে ফেলা যায়। 

২।ইমেইল 

ইমেইল হচ্ছে কাস্টমার সার্ভিস দেয়া সবচেয়ে পুরাতন এবং একইসাথে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম৷ এক্ষেত্রে আমার সাজেশন থাকবে শুধুমাত্র কাস্টমার সার্ভিস দেয়ার উদ্দেশ্যেই নিজের বিজনেস স্টোরের নাম সহ একটি ইমেইল অ্যাড্রেস রাখা। এতে করে কাস্টমাররাও বুঝতে পারবে যে ওই ইমেইল অ্যাড্রেসে ইমেইল পাঠালে তাদের যেকোন প্রশ্ন কিংবা সমস্যার ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদান করা হবে। 

৩। সোশাল মিডিয়া 

এখনকার দিনে সোশাল মিডিয়াতে সবাই ই অ্যাকটিভ থাকেন। তাই সোশাল মিডিয়া ব্যবহার করে ড্রপশিপিং বিজনেসে কাস্টমার সার্ভিস দিতে পারেন। এক্ষেত্রে বেছে নিতে পারেন নিজের স্টোরের নাম সম্বলিত ফেসবুক কিংবা ইনস্টাগ্রাম পেইজ। তবে সোশাল মিডিয়াতে কাস্টমার সার্ভিস দিতে চাইলে সেগুলোতে আপনাকে অবশ্যই পর্যাপ্ত অ্যাকটিভ থাকতে হবে। এই বিষয়টি সবসময় মাথায় রাখবেন। 

৪। ফোন নাম্বার 

যদি ফোন নাম্বারের মাধ্যমে কাস্টমার সার্ভিস দিতে চান, তাহলে আপনাকে পকেট বাড়তি কিছু টাকা খরচ করতে হবে। তবে ফোন নাম্বারের সাহায্যে কাস্টমারদের সাথে কমিউনিকেট করার উপকারিতাও অনেক। প্রথমত কাস্টমারদের এমন অনেক বিষয়ে প্রশ্ন থাকে যেগুলো মেসেজে কিংবা ইমেইলে লিখে বোঝানো যায়না। সেইক্ষেত্রে কাস্টমারের সাথে ফোনে কথা বলে নিলে ব্যাপারটি অনেক সহজ হয়ে যায়। 

ভালো কাস্টমার সার্ভিস দেয়ার জন্য কিছু টিপস :

  • সবসময় নিজের স্টোরের প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন যতটুকু পারেন বিস্তারিতভাবে লিখুন যাতে করে কাস্টমারের বুঝতে কোনপ্রকার অসুবিধা না হয়।
  • কাস্টমার প্রোডাক্ট ডেলিভারি পাওয়ার পর তাকে প্রোডাক্ট সম্পর্কে ফিডব্যাক দিতে অনুরোধ করুন। 
  • FAQ কিংবা যে প্রশ্নগুলো সাধারণত সব কাস্টমারই কমবেশি করে থাকেন সে প্রশ্নগুলোর উত্তর সহজ ভাষায় গুছিয়ে লিখে পাবলিশ করুন। 
  • কাস্টমারদের সম্মান করুন। তাদের প্রতিটি কমপ্লেইন পজিটিভলি দেখুন এবং তাদের কাছ থেকে এ ব্যাপারে পরামর্শ নিন। 
  • কাস্টমারদের চাহিদা বোঝার চেষ্টা করুন এবং কাস্টমারদের সমস্যা সমাধানের সময় কাস্টমারের জায়গায় নিজেকে দাঁড় করিয়ে তার অবস্থা বোঝার চেষ্টা করে সে অনুযায়ী সমস্যা সমাধান করুন। 
  • কাস্টমারদের মেসেজ কিংবা ইমেইলের রিপ্লাই সময়মত দিন। এক্ষেত্রে প্রতিটি রিপ্লাই যেন বিস্তারিতভাবে দেয়া হয় সেটি লক্ষ্য রাখুন। 

পরিশেষে এটুকু বলতে পারি, ড্রপশিপিং বিজনেস সফল করতে কাস্টমারদের ভূমিকা অনেক বেশি। তাই কাস্টমার সার্ভিস যেন ভালো হয় সেদিকে পর্যাপ্ত নজর দিন, দেখবেন সাফল্য হাতে ধরা দিচ্ছে। 

Write a comment